পরিচালকের বাণী

হযরত আনাস ইবনে মালিক রাঃ হতে বর্ণিত তিনি বলেন রাসুল সাঃ বলেছেন, জ্ঞানার্জন করা প্রত্যেক মুসলিম (নর-নারী) ব্যক্তির উপর ফরয। ( ইবনে মাজাহ-২২৪)

প্রত্যেক মানুষই স্বপ্ন ও সম্ভাবনার দোলাচালে আন্দোলিত হয়। কিন্তু আমরা শুধু স্বপ্ন দেখা নয় বরং স্বপ্ন বাস্তবায়নে বিশ্বাসী। আর এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য সর্বপ্রথম ও সবচেয়ে কার্যকর উপকরণ হচ্ছে নৈতিক জ্ঞান। বর্তমান বিশ্বে শিক্ষার যাবতীয় উপকরণ সহজলভ্য হওয়ার পরেও আমরা কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জনে বারবার ব্যর্থ হচ্ছি। কেননা, অনেকে ধর্মীয় শিক্ষা পরিহার করে শুধু পার্থিব শিক্ষা অর্জনের ফলে সন্তান আদর্শ মানুষ না হয়ে বরং স্বার্থপর মানুষ হিসেবে বড় হচ্ছে। ফলে সম্প্রতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে সন্তান তার বৃদ্ধ পিতামাতাকে লালন-পালন করাকে বোঝা মনে করে তাদেরকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাচ্ছে। যা দার্শনিক স্ট্যানলি হল এর নিম্নোক্ত কথারই প্রতিচ্ছবি-    “If you teach your children the three R’s (of reading, writing & arithmetic) and leave the forth R (of religion), you will get a fifth R (of rascality).” অর্থ- “তুমি যদি তোমার সন্তানকে তিনটি R অর্থাৎ Reading (পড়া) writing  (লেখা) arithmetic (গণিত) শিখাও আর চতুর্থ R (ধর্ম) কে বাদ দাও তাহলে তুমি পঞ্চম একটি R পাবে অর্থাৎ Rascality (বদমায়েশী)। আবার অনেকে দুনিয়ার প্রয়োজনীয় এবং যুগোপযোগী জ্ঞানার্জন ব্যতীত শুধু ধর্মীয় জ্ঞানার্জন করে দুনিয়া-আখিরাত উভয় জগতের প্রয়োজনীয় কল্যাণ সাধনে ব্যর্থ হচ্ছে। অথচ আমাদের প্রিয় রাসুল সাঃ মানবিক, সামাজিক ও আদর্শিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা চালু করেছিলেন যার কারনে তৎকালীন সময়ের সবচেয়ে মূর্খ ও বর্বর একদল মানুষ পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ সোনার মানুষে পরিণত হয়ে দুনিয়াতেই জান্নাতের সু-সংবাদ লাভ করে ধন্য হয়েছেন। বর্তমান বিশ^ায়নের যুগে যথাযথ জ্ঞানার্জন ব্যতিত শুধু সার্টিফিকেট সর্বস্ব লেখাপড়া করে প্রতিযোগিতার কোন স্তরেই টিকে থাকা সম্ভব নয়। বিজ।হানের উৎকর্ষতা আর প্রযুক্তির অভিনবতার এই যুগে দ্বীনি ইলম অর্জনের পাশাপাশি আধুনিক বিশে^ নিজের সন্তানকে একজন আদর্শবান, যোগ্য ও অগ্রগামী নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা প্রত্যেক অভিভাবকের জন্য সময়ের অপরিহার্য দাবি।কিন্তু সে স্বপ্ন পূরনের জন্য দরকার প্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক মানসম্পন্ন একটি দ্বানী প্রতিষ্ঠান। যেখানে রয়েছে আমল ও ইলমের গভীর সমন্বয়। ভালো ফসলের জন্য যেমন ভালো বীজ বপন ও সুন্দর পরিচর্যা প্রয়োজন, ঠিক তেমন আদর্শ মানুষ গঠনের জন্য প্রয়োজন উন্নত শিক্ষা ও পরিচর্যা। জ্ঞান ও দক্ষতা ব্যক্তির নিজস্ব সম্পদ। জ্ঞানী ও দক্ষ মানুষ জাতির সম্পদ। আপনার সন্তান আপনার সম্পদ ও জাতির ভবিষ্যৎ। সঠিক পরিচর্যায় হতে পারে দিগন্ত উজ্জলকারী নক্ষত্র। কিন্তু নানা অলিতে গলিতে, প্রতিটি বাঁকে নানা আয়োজনে, অগণিত প্রলোভনের পসরা বসিয়ে ওদেরকে বিপথগামী করার জন্য নানাজন সদা তৎপর। আমরা আশা করি একজন সচেতন অভিভাবক হিসেবে এই বিষয়গুলো আপনার দৃষ্টির আড়ালে নয়। অর্জিত জ্ঞান যদি ব্যক্তির চরিত্রে প্রস্ফুটিত না হয় তাহলে তার নিকট হতে কল্যাণ আশা করা যায় না। তাই সচেতন অভিবাকদের কাঙ্খিত স্বপ্ন পূরণের দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে, শুধু ভালো ছাত্র নয় বরং তার সাথে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে, বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে, জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতিযোগিতার সাথে তাল মিলিয়ে সৎ, দক্ষ ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত, নৈতিক চরিত্রবান এবং তাকওয়া সম্পন্ন আদর্শ জাতি গঠনের প্রত্যাশা নিয়ে আপনাদের পাশে রয়েছে- বাইতুল হিকমাহ মডেল মাদরাসা।